পোস্টগুলি

মে, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

## হজের জন্য মন কাঁদে? এই দুআ বদলে দিতে পারে তাকদির!

🕋 হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা: ইমাম দামীরী (রহ.) এবং বাক্য “لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الفتّاح العليم الرقيب المنّان” একবার ইমাম দামীরী (রহ.) স্বপ্নে এক আল্লাহওয়ালাকে দেখলেন। তিনি বললেন: "لقد بعد عهدي بالبيت العتيق و كثر شوقي إليه." অর্থ: “বাইতুল আতীক (কাবা) থেকে দীর্ঘদিন হয়ে গেছে, এবং আমার আগ্রহ ও শোক বাড়ছে।” এরপর সেই বুযুর্গ ব্যক্তি তাকে বললেন: "قل: لا إله إلا الله الفتّاح العليم الرقيب المنّان." অর্থ: “বল: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল-ফাত্তাহুল আলীমুর রকীবুল মান্নান।’” ইমাম দামীরী (রহ.) এরপর থেকে এই বাক্যটি অধিক পরিমাণে পাঠ করতে থাকেন। এবং ঐ বছরই তিনি হজের সফরে যেতে সক্ষম হন। 📚 দলিলসূত্র: গ্রন্থ: نزھة المجالس و منتخب النفائس লেখক: عبد الرحمن الصفوري খণ্ড: ১ পৃষ্ঠা: ১৩৫ প্রকাশনী: دار الفكر، بيروت لبنان 🟤 একটি নসিহতমূলক উক্তি: "فلو أكثرنا من هذه في هذه الأيام لعل في الأيام القابلات نكون وفد الله تعالى إلى الحج" অর্থ: “আমরা যদি এই বাক্যটি ...

প্রভিডেন্ট ফান্ড কি কুরবানির নেসাবে অন্তর্ভুক্ত?

🐄 প্রভিডেন্ট ফান্ড কি কুরবানির নেসাবে অন্তর্ভুক্ত? ❓ প্রশ্ন: সরকারি চাকরিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডে একটি অংশ বাধ্যতামূলক কাটা হয় এবং আরেকটি অংশ ঐচ্ছিকভাবে কর্মচারী জমা রাখতে পারেন। এমতাবস্থায়, কোরবানির নেসাব নির্ধারণে এই প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কি অন্তর্ভুক্ত হবে? ✅ সংক্ষিপ্ত উত্তর: ঐচ্ছিক অংশ (Voluntary PF): মালিকানায় নিশ্চিত থাকলে কোরবানির নেসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে । আবশ্যিক অংশ (Compulsory PF): চাকরি চলাকালীন মালিকানাহীন ও অনিয়ন্ত্রিত হওয়ায় নেসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে না । 📖 বিস্তারিত আলোচনা: হানাফি ফিকহ মতে, কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য মূল শর্ত হলো—ব্যক্তির মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত পূর্ণ মালিকানাধীন নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে। প্রভিডেন্ট ফান্ড দুই ধরনের হয়: 🔸 ১. ঐচ্ছিক অংশ (Voluntary Contribution): এ অংশ কর্মচারীর ইচ্ছায় জমা হয় এবং তার নামে পৃথক হিসাব থাকে। অনেক সময় তা চাহিবামাত্র উত্তোলনযোগ্য হয়। সুতরাং এটি মালিকানাধীন সম্পদ , ফলে কুরবানির নেসাবে গণ্য হবে। 🔸 ২. আবশ্যিক অংশ (Compulsory Contribution): এটি মূলত সরকারের অধীনে থাকে এবং কর্মচার...

কুরবানির চামড়া ব্যবহার: হানাফি ফিকহ অনুযায়ী বিধান

🐐 কুরবানির পশুর চামড়া নিজের জন্য ব্যবহার করা যাবে কি? 📌 প্রশ্ন: অনেক সময় কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না করে ঘরের কাজে বা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি কি শরিয়ত অনুযায়ী জায়েয? নাকি তা কোনোভাবে নিষিদ্ধ? 🕋 ইসলামী বিধান: হানাফি মাযহাব অনুযায়ী কুরবানির পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করা জায়েয ও বৈধ । তবে একে বিক্রি করে তার অর্থ নিজে খরচ করা অনুমোদিত নয় । চামড়া বিক্রি করলে সেই টাকা ফকীর-মিসকীনদের সদকা করে দিতে হবে। তবে বিক্রি না করে নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা নেই। 📚 দলীলসমূহ (হানাফি কিতাব থেকে): "ويتصدق بجلدها أو يعمل منه خُفًّا أو نعلًا أو جرابًا" — الفتاوى الهندية , খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩০৭ "ولا أن يجعلَ الجلدَ سفَراً، لأنه لا ينتفع بجلدها"   - بدائع الصنائع -, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৫ "لأنه لا يجوز له الانتفاع بها بعد الذبح إلا بما يعود نفعه إلى الفقراء" — رد المحتار , খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩২৫ 🏷 প্রাসঙ্গিক ট্যাগ: কুরবানি , চামড়া , হানাফি ফিকহ , কুরবানির বিধান , ইসলামি প্রশ্নোত্তর , Fiqh of Qurbani

"হালাল ব্যাংকিং" বনাম "ইনা বিক্রয়"

 # প্রশ্নঃ         ১ লক্ষ টাকায় কারো কাছ থেকে নগদে কোনো ঘর বা পন্য কিনে আবার তার কাছেই ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বাকিতে বিক্রি করা কি জায়েয? যা অনেক উলামায়ে কেরাম হালাল ব্যাংকিং হিসেবে ব্যবহার করছেন। (এটি কি হালাল ব্যবসায়িক লেনদেন নাকি সুদের হিলা?) --- #উত্তর:           হ্যাঁ, এই লেনদেনটি হালাল ও শরিয়তসম্মত, যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করা হয়। এটি হারাম ‘ইনা বিক্রয়’ নয়, বরং প্রকৃত মালিকানা ভিত্তিক একটি বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন। এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনার জন্য প্রথমে দুটি সুরত বোঝা জরুরি: --- সুরত–১: বর্তমান প্রশ্নোল্লিখিত লেনদেন একজন ব্যক্তি অপর একজনের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকায় নগদে একটি ঘর ক্রয় করলেন। এরপর সেই ঘরটি তাকেই ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বাকিতে বিক্রি করে দিলেন। এই দুইটি লেনদেন ছিল পৃথক, স্বাধীন এবং একে অপরের সঙ্গে শর্তযুক্ত ছিল না। এটা হলো প্রকৃত মালিকানা ভিত্তিক বিক্রি (البيع الحقيقي). --- সুরত–২: ইনা বিক্রয় (بيع العِينة) একজন ব্যক্তি অপরজনকে একটি পণ্য বেশি দামে বাকিতে বিক্রি করে, এরপর সেই পণ্যটি কম দামে নগদে তার কাছ থেকেই আবার ...

কার উপর কোরবানি ওয়াজিব?

 # প্রশ্নঃ ১. কোরবানি কার উপর ওয়াজিব? # উত্তর: কোরবানি ওয়াজিব হয়— ১) মুসলমান, ২) প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ), ৩) আকলমন্দ, ৪) মুকিম (মুসাফির নয়), যার কাছে কুরবানির দিনগুলোতে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা তার সমপরিমাণ সম্পদ)। #দলিল: “فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ” (সূরা কাউসার, আয়াত: ২) আল হিদায়া, খণ্ড: ৪, পৃ: ৩৫২, প্রকাশনী: দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ। বাদায়েউস সানায়ি, খণ্ড: ৫,  পৃ: ৬৪, দারুল কুতুব।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কুরবানি করবে কি? ক্ষুদ্র ঋণ ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের হুকুম

#প্রশ্ন: আমার উপর কিছু ঋণ আছে—কিছু এখনই পরিশোধ যোগ্য (ক্ষুদ্র ঋণ), আবার কিছু দীর্ঘমেয়াদি। এই অবস্থায় কুরবানি করব কি? #উত্তর : কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত: ঈদুল আযহার দিন কেউ যদি নিজ প্রয়োজন ও ঋণ বাদ দিয়ে নেসাব পরিমাণ (৬১২.৩৬ গ্রাম রূপা বা সমমূল্য) সম্পদের মালিক হয়, তার উপর কুরবানি ওয়াজিব। --- ঋণের দুই প্রকার এবং মাসআলা: ১. ক্ষুদ্র ঋণ (Short-term debt): যেমন: দোকানের বাকি, ঘরভাড়া, মাসিক কিস্তি, কাছাকাছি সময়ে পরিশোধযোগ্য ঋণ। → এই ঋণকে সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। যদি বাদ দেওয়ার পর নিসাব থাকে, কুরবানি ওয়াজিব। ২. দীর্ঘমেয়াদি ঋণ (Long-term debt): যেমন: ২–৫ বছর মেয়াদি ব্যাংক ঋণ বা গৃহ নির্মাণ ঋণ, যা ধাপে ধাপে পরিশোধযোগ্য। → এর পুরোটা বাদ দেওয়া হবে না; বরং শুধু 'তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য অংশ' বাদ দেওয়া হবে। বাকি অংশ পরবর্তী মাস/বছরের হওয়ায় কুরবানির ক্ষেত্রে তা হিসাবযোগ্য নয়। ---- #দলিল ও কিতাবসূত্র: ১. রদ্দুল মুহতার: > "لو كان عليه دين مؤجل لا يمنع وجوب الأضحية، إلا ما كان حالّا منه." — রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩১৬ প্রকাশক: دار الفكر ২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া: > ...

ভাগে কুরবানি: একটি গরুতে ৭ জনের কুরবানি: হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত বিধান ও দলিলসমূহ

** প্রশ্ন: ** হানাফি মাযহাব অনুযায়ী একটি গরুতে ৭ জন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করে কোরবানি করতে চাইলে কি তা সহিহ হয়? যদি কারো নিয়ত ঠিক না থাকে, তবে বাকিদের কোরবানির হুকুম কী?  ** উত্তর :** হানাফি মাযহাব অনুসারে একটি গরু বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত মুসলমান শরিক হয়ে কোরবানি করতে পারেন। তবে এ বিধান তখনই প্রযোজ্য হবে যখন নিন্মোক্ত শর্তসমূহ পূরণ করা হয়:  ### ** প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ: ** **১. সবার নিয়ত অবশ্যই কোরবানি (উযহিয়া) হওয়া আবশ্যক। ** ২. যদি ৭ জনের মধ্যে একজনও এমন থাকেন, যার নিয়ত কোরবানি নয় (যেমন, শুধু গোশত পাওয়ার উদ্দেশ্যে শরিক হওয়া), তাহলে কারো কোরবানিই সহিহ হবে না।  > **দলিল:** >   ইমাম কাসানী (রহ.) বলেন— >  **"وإن اشترك سبعة في بقرة أو بدنة وكانت نية جميعهم القربة جاز، وإن اختلفت نياتهم لم يجز."** > *(بدائع الصنائع، ج 5، ص 70، دار الكتب العلمية) * ** ২. সবার অংশ যেন সমান হয়।** সমান ভাগ করাই মূলনীতি। তবে হানাফি ফিকহে সামান্য পার্থক্য যদি প্রতারণার পর্যায়ে না পৌঁছে, তা মাফযোগ্য।  > **দলিল:** >  “وَلَا بَأْسَ بِاشْتِرَاكِ سَبْعَةٍ فِي الْبَق...